রাজশাহীর বাগান থেকে সরাসরি · সারা দেশে ডেলিভারি

রাজশাহীর আম

নিজের আমবাগান

আমের বাগান করুন

জমি বাছাই থেকে ফল তোলা পর্যন্ত পুরো চাষ পদ্ধতি, কত গাছ লাগবে আর কত খরচ হবে তার হিসাব, আর প্রশ্ন করলেই উত্তর দেওয়া পরামর্শক।

বাগান ক্যালকুলেটর

জমির মাপ ও গাছের দূরত্ব দিন, কত গাছ লাগবে আর শুরুতে কত খরচ হতে পারে দেখুন।

১. আপনার জমি
২. গাছের দূরত্ব
%

পথ, নালা ও সীমানা বাদ দিয়ে

%

মরে গেলে বদলানোর জন্য

৩. খরচ (আপনার এলাকার দাম বসান)

নিচের সংখ্যাগুলো শুধু শুরুর একটা ধারণা। প্রতি গাছের খরচ টাকায়।

৳
৳
৳
৳
৳
৪. পূর্ণ বয়সে ফলন (উদাহরণ মাত্র)
কেজি
৳

চাষ পদ্ধতি: ধাপে ধাপে

এটি সাধারণ নির্দেশিকা। মাটি ও আবহাওয়াভেদে বদলাতে পারে। সারের মাত্রা ও কীটনাশকের জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিন।

১. জমি ও জায়গা বাছাই
  • পানি জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি, দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো।
  • পূর্ণ রোদ পায় এবং ঝড়ের ধাক্কা কম লাগে এমন জায়গা বেছে নিন; বাগানের চারপাশে বায়ুরোধী গাছ লাগানো যায়।
  • সেচের পানির উৎস আছে কি না দেখুন, বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন বছর শুষ্ক মৌসুমে সেচ লাগবে।
  • চারা কেনার আগে মাটি পরীক্ষা করিয়ে নিলে সার ঠিকমতো দেওয়া যায়।
২. জাত নির্বাচন
  • বাজারে কী চলে আর কখন পাকে, দুটোই ভাবুন। গোপালভোগ আগে পাকে, হিমসাগর ও খিরসাপাত তার পরে, ল্যাংড়া ও ফজলি আরও পরে, আম্রপালি বেশ দেরিতে আর আশ্বিনা সবার শেষে।
  • একই জাতে না গিয়ে আগে-পরে পাকে এমন কয়েকটি জাত মেশালে ফসল এক সময়ে ঝুঁকিতে পড়ে না, বিক্রিও ছড়িয়ে যায়।
  • সবসময় কলমের চারা নিন, জাত নিশ্চিত হয়ে। বীজের চারায় জাত ও ফল ধরার সময় অনিশ্চিত।
  • কম জায়গায় বেশি গাছ লাগাতে চাইলে বামন বা ছোট থাকে এমন জাত (যেমন আম্রপালি) ঘন লাগানোয় উপযুক্ত।
৩. রোপণের সময় ও গর্ত
  • সাধারণত বর্ষা মৌসুমে (প্রায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর) চারা লাগানো হয়, তখন মাটিতে রস থাকে।
  • রোপণের ১৫ থেকে ৩০ দিন আগে গর্ত খুঁড়ে রাখুন। চিরাচরিত দূরত্বে প্রায় ১ মিটার চারকোনা গর্ত; ঘন বাগানে কিছুটা ছোট হলেও চলে।
  • ওপরের উর্বর মাটির সাথে পচা গোবর বা কম্পোস্ট মিশিয়ে গর্ত ভরুন। মাত্রা মাটির ধরন অনুযায়ী ঠিক করুন।
  • কলমের জোড়ার জায়গা মাটির ওপরে রেখে চারা বসান, সাথে সাথে পানি দিন আর খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিন।
৪. প্রথম কয়েক বছরের যত্ন
  • শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিন, গোড়ায় খড় বা পাতার মালচ দিন যাতে মাটির রস থাকে।
  • গোড়ার আগাছা পরিষ্কার রাখুন, গরু-ছাগল থেকে চারা বাঁচাতে বেড়া দিন।
  • প্রথম বছরে মরে যাওয়া চারা বদলে দিন। এজন্যই কিছু বাড়তি চারা রাখা ভালো।
  • গাছ ছোট থাকতে ফুল এলে তা ভেঙে দিলে গাছ আগে শক্ত হয়ে বাড়ে।
৫. সার ও সেচ
  • গাছের বয়স বাড়লে সারের পরিমাণও বাড়ে, আর সাধারণত বছরে কয়েক কিস্তিতে (বর্ষার শুরুতে, বর্ষার শেষে) দেওয়া হয়।
  • জৈব সার প্রতি বছর দিন; রাসায়নিক সারের সঠিক মাত্রা মাটি পরীক্ষা ও স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করুন।
  • ফুল আসার সময় অতিরিক্ত সেচ ফুল ঝরাতে পারে, তাই ওই সময় সেচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ফল বড় হওয়ার সময় আবার নিয়মিত সেচ দিন।
৬. ছাঁটাই ও গাছ গড়া
  • প্রথম কয়েক বছরে নিচের দিকের অতিরিক্ত ডাল সরিয়ে ৩ থেকে ৪টি মূল ডাল রেখে গাছের কাঠামো গড়ুন।
  • ফল তোলার পর মরা, রোগাক্রান্ত ও ঘন ডাল ছেঁটে দিন যাতে ভেতরে আলো-বাতাস ঢোকে।
  • ঘন করে লাগানো বাগানে প্রতি বছর ছাঁটাই না করলে গাছ ছায়ায় ঢেকে যায় ও ফলন কমে।
৭. ফুল ও ফল ধরা
  • সাধারণত শীতের শেষে থেকে বসন্তের শুরুতে মুকুল আসে। মুকুল আসার সময় কীটনাশক স্প্রে এড়ান, কারণ মৌমাছি ও পোকা পরাগায়ণ করে।
  • ফল ধরার পর খুব বেশি ফল ঝরলে বা ছোট থাকলে সেচ, সার ও রোগ-পোকার দিকে নজর দিন।
  • ফল ব্যাগিং (কাগজ বা বিশেষ ব্যাগে ঢেকে দেওয়া) পোকা ও দাগ থেকে ফল বাঁচায় এবং রং ভালো করে।
৮. রোগ ও পোকা
  • আমে সাধারণত হপার পোকা, পাউডারি মিলডিউ, অ্যানথ্রাকনোজ, ফলের মাছি ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা দেখা যায়।
  • বাগান পরিষ্কার রাখা, ঝরা পাতা ও পচা ফল সরানো, ফল ব্যাগিং আর ফাঁদ ব্যবহারের মতো সমন্বিত পদ্ধতি আগে চেষ্টা করুন।
  • কীটনাশক বা ছত্রাকনাশকের নাম ও মাত্রা নিজে ঠিক না করে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) বা বারি-র পরামর্শ নিন।
৯. ফল সংগ্রহ
  • ফল পরিপক্ক হলে (কাঁধ ভরে উঠলে, খোসার রং হালকা বদলালে) তুলুন; কাঁচা তুললে স্বাদ ও মান কমে।
  • বোঁটাসহ কেটে নিন, আর আমের আঠা খোসায় না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন, নইলে দাগ পড়ে।
  • ছায়ায় রাখুন, বাছাই করুন, নরম প্যাকিংয়ে ক্রেটে সাজান। পাকানো ও বাজারজাতকরণে তাড়াহুড়ো করবেন না।

সারা বছরের কাজ

মাস অনুযায়ী বাগানের কাজ
বর্ষা (জুন–সেপ্টেম্বর)নতুন চারা লাগানো, ফল তোলার পর ছাঁটাই, বর্ষার শুরুতে সার
শরৎ–হেমন্ত (অক্টোবর–নভেম্বর)বর্ষা শেষের সার, জৈব সার, বাগান পরিষ্কার, ঝরা পাতা সরানো
শীত (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি)মুকুল আসার সময়: সেচ নিয়ন্ত্রণ, স্প্রে এড়ানো, হপার পোকা ও মিলডিউর দিকে নজর
বসন্ত (মার্চ–এপ্রিল)ফল ধরা ও বাড়া: সেচ, ফল ব্যাগিং, ফলের মাছির ফাঁদ
গ্রীষ্ম (মে–আগস্ট)ধাপে ধাপে ফল সংগ্রহ: গোপালভোগ থেকে আশ্বিনা পর্যন্ত

বাগান পরামর্শক

আমের বাগান নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন করুন: জাত, দূরত্ব, সার, রোগ-পোকা, খরচ।

আমবাগান পরামর্শক

এআই সহকারী · উত্তর ভুল হতে পারে

আসসালামু আলাইকুম! কোথায় কত জমিতে বাগান করতে চান, জানালে আরও ভালো পরামর্শ দিতে পারব।

আমাদের কলমের চারা

সব চারা দেখুন

বড় বাগান বা বেশি চারা লাগবে?

পরিমাণ ও জাত জানান, আমরা দাম ও ডেলিভারির ব্যবস্থা জানাব।

যোগাযোগ করুন

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

কত দিনে আম গাছে ফল আসে?

কলমের চারা সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরে ফল দিতে শুরু করে। পূর্ণ ফলন আসতে আরও কয়েক বছর লাগে।

এক শতকে কয়টি আম গাছ লাগানো যায়?

দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। ১০ × ১০ মিটারে প্রায় ০.৪টি, ৫ × ৫ মিটারে প্রায় ১.৬টি। হিসাব করতে নিচের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

কোন সময়ে চারা লাগাব?

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে, প্রায় জুন থেকে সেপ্টেম্বরে।