রাজশাহীর বাগান থেকে সরাসরি · সারা দেশে ডেলিভারি

রাজশাহীর আম

আমবাগানের মাসিক কাজ

এই মাসে কী করবেন দিয়ে শুরু, তারপর পুরো বছর।

  1. অক্টোবরএই মাস

    • সাধারণবাগান পরিষ্কার

      পড়ে থাকা ডাল-পাতা সরান, আগাছা কাটুন। এতে রোগ ও পোকা কমে।

    • সেচসেচ পরীক্ষা

      মাটি বেশি শুকিয়ে গেলে হালকা সেচ দিন। ফুল আসার আগে বেশি সেচ দেবেন না।

  2. নভেম্বর

    • সারফুলের আগে সার

      পরিকল্পনা অনুযায়ী পরের ভাগ সার দিন। এ সময় বেশি ইউরিয়া দিলে গাছ বেশি পাতা দেয় আর মুকুল কম আসে।

    • সাধারণমুকুলের প্রস্তুতি

      ঘন ডাল পাতলা করুন যাতে আলো-বাতাস ঢোকে। সেচ কমিয়ে দিন।

  3. ডিসেম্বর

    • ফুল ও ফলমুকুল আসা

      কুয়াশা বা মেঘলা দিনে পাউডারি মিলডিউ ও হপারের ঝুঁকি বাড়ে। বাগান ঘুরে দেখুন, প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।

    • সেচসেচ বন্ধ

      মুকুল আসার সময় সেচ দেবেন না।

  4. জানুয়ারি

    • ফুল ও ফলফুলের সময় নজর রাখুন

      মুকুলে হপার পোকা ও পাউডারি মিলডিউ দেখা দিতে পারে। প্রতি সপ্তাহে মুকুল দেখুন। ওষুধ দেওয়ার আগে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন এবং লেবেলের নিয়ম মানুন। ফুল ফোটার সময় দুপুরে স্প্রে করবেন না, কারণ মৌমাছি পরাগায়ন করে।

    • সেচফুলের সময় সেচ নয়

      মুকুল আসার পর থেকে ফল ধরা পর্যন্ত সেচ দেবেন না। এতে ফুল ঝরতে পারে।

  5. ফেব্রুয়ারি

    • ফুল ও ফলফল ধরা পর্যবেক্ষণ

      ফল মটরদানার মতো হলে হপার ও ঝরে পড়া দেখুন। অপ্রয়োজনে ওষুধ দেবেন না।

    • সারফল ধরার পর সার

      পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরিয়া ও এমওপির বাকি অংশ দিন। সারের পরে হালকা সেচ দিন।

  6. মার্চ

    • সেচফল বাড়ার সেচ

      ফল বড় হওয়ার সময় ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর সেচ দিন। এতে ফল ঝরা কমে।

    • সুরক্ষাফলের মাছি ফাঁদ

      ফেরোমন ফাঁদ বাগানে ঝোলান। মাটিতে পড়া আক্রান্ত ফল তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলুন।

  7. এপ্রিল

    • সাধারণফলে ব্যাগ পরানো

      ফল ডিমের আকার হলে ব্যাগ পরান। এতে দাগ, পোকা ও রোগ কমে এবং আম দেখতে ভালো হয়। রপ্তানির আমে ব্যাগিং খুব কাজে লাগে।

    • সেচনিয়মিত সেচ

      গরমে মাটি শুকিয়ে গেলে সেচ দিন, তবে গোড়ায় পানি জমাবেন না।

  8. মে

    • ফল তোলাআগাম জাত তোলা

      গোপালভোগ ও হিমসাগরের মতো আগাম জাত পরিপক্ক হলে তুলুন। ডাঁটাসহ আম পাড়লে আঠা কম লাগে ও ভালো থাকে।

    • সেচতোলার আগে সেচ বন্ধ

      আম তোলার প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে সেচ বন্ধ রাখুন। এতে আমের স্বাদ ভালো থাকে।

  9. জুন

    • ফল তোলামূল মৌসুমের আম

      হিমসাগর, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ তোলার সময়। সকালে তুলুন, রোদে ফেলে রাখবেন না, পাড়ার সময় আম মাটিতে ফেলবেন না।

    • সাধারণচারা লাগানোর মৌসুম শুরু

      বর্ষা শুরু হলে নতুন চারা লাগানোর সময় হয়। আগেই গর্ত খুঁড়ে সার দিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন রেখে দিন।

  10. জুলাই

    • ফল তোলাদেরিতে পাকা জাত

      ফজলি, আম্রপালি ও বারি আম-৪ তোলার সময়। আম বাছাই করে আকার অনুযায়ী সাজান।

    • সাধারণচারা রোপণ

      কলমের চারা লাগান, গোড়ার জোড় মাটির ওপরে রাখুন। রোপণের পর সেচ ও খুঁটি দিন।

  11. আগস্ট

    • ছাঁটাইফল তোলার পর ছাঁটাই

      মরা, রোগাক্রান্ত ও একে অপরের সাথে ঘষা লাগা ডাল কেটে ফেলুন। কাটা জায়গায় কপার-জাতীয় পেস্ট লাগান।

    • সারপ্রথম ভাগ সার

      ফল তোলার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক, বোরন এবং ইউরিয়া ও এমওপির এক-তৃতীয়াংশ দিন।

  12. সেপ্টেম্বর

    • সারসার ও আগাছা

      গাছের ছায়ার নিচে মাটি আলগা করে সার দিন। আগাছা পরিষ্কার রাখুন।

    • সাধারণচারা লাগানোর শেষ সময়

      বর্ষা শেষ হওয়ার আগে নতুন চারা লাগিয়ে ফেলুন। শুকনো মৌসুমে লাগালে সেচ বেশি লাগে।

এটি সাধারণ কাজের তালিকা। আবহাওয়া ও জাত ভেদে সময় কিছুটা আগে-পরে হয়। ওষুধ বা রাসায়নিক দেওয়ার আগে লেবেল পড়ুন আর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।